গল্পের নামঃ জানা নেই।
.
> আচ্ছা দোস্ত বল তো ইভটিজিংয়ের
জন্য কারা দায়ী?
- নিঃসন্দেহে তোদের কাপড়ের দোষ।
> কেন? কাপড়ের দোষ কিভাবে?
- উল্টাপাল্টা কাপড় পড়লে
ইভটিজিংয়ের স্বীকার তো হবিই।
> ঠিক বলেছিস। এই যে দেখ আমার
কাপড় খুব খারাপ তাই না?
- না তোরটা ঠিক আছে। তবে কিছু
কিছু মেয়ে উল্টাপাল্টা কাপড় পড়ে।
> তাহলে একটু আগে ভার্সিটিতে
আসার সময় আমি আমি কেন
ইভটিজিংয়ের স্বীকার হলাম?
- কারা টিজ করেছে তোকে?
.
> ওই যে রাস্তার পাশে প্রতিদিন যে
ছেলেগুলো দাড়িয়ে থাকে।
- ওহ! ওদের কাজই এসব। যত্তসব
আজাইরা
পোলাপাইন। তুই ওদের দিকে খেয়াল
দিস না।
> আচ্ছা দোস্ত একটা কথা জিজ্ঞেস
করি?
- হ্যাঁ কর।
> আচ্ছা তুই কি কখনো শুনেছিস
আমাদের ভার্সিটির শান্ত ছেলেটা
কখনো কোনো মেয়ের দিকে
কুদৃষ্টিতে তাকিয়েছে?
- শান্ত তো খুব ভদ্র ছেলে। ও কেন
এসব
করতে যাবে?
> কিন্তু শান্তর বান্ধবীদের দেখ।
ওরা
তো মডার্ন ড্রেস পড়ে।
- আরে বাবা বললাম না শান্ত খুব ভদ্র
ছেলে।
.
> আচ্ছা দোস্ত সাদেক ছেলেটা সবসময়
মেয়েদেরকে এত ডিস্টার্ব করে কেন?
- সাদেক তো একটা হারামি। কুত্তাটা
তো ম্যাডামদের ক্লাসেও ফাইজলামি
করে।
> কিন্তু কেন করে? ম্যাডামরা তো
খুব
পরিপাটি পোষাকেই ভার্সিটিতে
আসে।
- সাদেক অভদ্র তাই এমন করে।
.
> এখন তুই নিজেই শান্ত এবং সাদেকের
মাঝে তুলনা করে দেখ।
- কিসের তুলনা?
.
> দেখ, তোর মতে শান্ত ভদ্র তাই সে
কোনো মেয়ের দিকে কুদৃষ্টিতে
তাকায় না। এমন কি শান্তর আসে
পাশে আধুনিক পোষাকে থাকা
বান্ধবীদের দিকেও খারাপ দৃষ্টিতে
তাকায় না। কিন্তু সাদেক তার
বিপরীত। কারণ সাদেকের নজরই
খারাপ।
.
- হ্যাঁ।
> তবুও তুই ইভটিজিংয়ের জন্য
মেয়েদের
পোষাককেই দায়ী করলি। কিন্তু কেন?
- ইয়ে মানে …………
> শুন, তুই কি কখনো শুনেছিস কোনো
কর্মজীবী কিংবা পেশাদার
ব্যক্তিরা ইভটিজিং কিংবা
মেয়েদের সাথে অশ্লীল কোনো কিছু
করেছে?
- না।
.
> আমিও শুনিনি। তবে আমি সবসময়
শুনেছি, রাস্তার বখাটে ছেলেদের
দ্বারা মেয়েরা ইভটিজিংয়ের
স্বীকার হয়েছে। আমি আরো শুনেছি
রেললাইনের পাশে বসে গাজা-
আফিং খোরদের দ্বারা মেয়েরা
ইভটিজিংয়ের স্বীকার হয়েছে। তবুও
এই সমাজ দোষ দিবে কাপড়ের।
.
আমি একটু থেমে আবার বললাম
> দোষ কাপড়ের নয়। দোষ
মনমানসিকতার। তাই বলে এই নয় যে
আমরা বেপরোয়া ভাবে চলাফেরা
করব। আমাদেরকেও সুশীল ভাবে
চলাফেরা করতে হবে।
.
- স্যরি দোস্ত।
> আরে ও কিছু না। চল ক্লাস করতে
যাই।
- চল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন