সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

পাত্রী দেখা

- কি রে মেয়ে পছন্দ হইছে? - হ্যাঁ আম্মু হইছে (বাধ্য হয়ে বললাম। কিন্তু আমি এখনো মেয়ের ছবিই দেখি নাই) - তাহলে তাড়াতাড়ি চলে আয়। আমরা আর সময় নষ্ট করতে চাচ্ছি না। - ঠিক আছে আমি বাড়ি আসছি। - বাড়ি আসবি কেন? তোর সাইফুল চাচার বাসায় আয়। আমরা সবাই তোর চাচার বাসায়। - কেন!!!ওখানে কেন? - মেয়ের বাড়ি রংপুরে। তাই আমরা সবাই রংপুরে তোর চাচার বাসায় আছি। তুই আজই চলে আয়। কালকেই আমরা মেয়ে দেখতে যাব। - কালকেই!!!! তা আমাকেও কি যেতে হবে? - গাধা,,তোর হবু বউকে তুই দেখবি না? (রেগে গিয়ে) - ঠিক আসে আমি আসছি। . ফোনটা কেটে দিলাম। আমার কোন ইচ্ছে নেই বিয়ে করার। কিন্তু বাড়ির সবাই যেভাবে চেপে ধরেছে রাজি না হয়ে আর উপয় নেই। তারপরও একটা প্লান করেছি যাতে বিয়ে না হয়। কিন্তু মনে হয়না তা সফল হবে। . বাসে বসে আছি। আমার কাছে জার্নি একদাম ভাল লাগে না। তারপরও বাসে যেতে হচ্ছে। . - excuse me ভাইয়া এটা আমার সিট। একটা মেয়ে তার টিকিট দেখিয়ে আমাকে বলল। - ওহ!! সরি। জানলার পাশের সিটটা ছেড়ে দিলাম। বাস চলতে শুরু করল। একটু পরে মেয়েটা আমাকে বলল - আপনার নাম কি ভাইয়া? - আল আমিন। আপনার নাম? - মিরা। - আপনি কি করেন? - বি.এ কম্পিট করেছি। আপনি? - আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার - ও। কোথায় যাচ্ছেন আপনি? - রংপুর। - বেড়াতে যাচ্ছেন। - না কিছুদিনের মধেই আমার বিয়ে তাই মেয়ে দেখতে যাচ্ছি। একথা শুনে মেয়েটা মুখ লুকিয়ে হাসছে। কেন বুঝতে পারলাম না। এই মেয়েটা কি জিবনে এরকম কথা শুনে নাই। নাকি বিয়ে তার কাছে মিস্টার বিনের মতো একজন। - আপনি কোথায় যাচ্ছেন? মেয়েটা একটু চুপ থেকে বলল - আমিও রংপুর যাচ্ছি। - ও তাই। আপনার বাসা রংপুরে? - হ্যাঁ। আপনি রংপুরে কার বাসা যাচ্ছেন? - আমার চাচার বাসা। আপনি কি রংপুরে বেড়াতে যাচ্ছেন? - না আসলে আমারও কিছুদিনের মধ্যে বিয়ে তাই। - ও। - তো আপনি মেয়েকে দেখেছেন? - না। দেখতেই তো যাচ্ছি। - না মানে। ছবি টবি কিছু দেখেন নি। - না দেখি নি। - কেন? - আসলে আমি বিয়েটা করতে চাচ্ছিলাম না। বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে। - ও!! মেয়ের নাম জানেন? - না। - ওমা যার সাথে আপনার বিয়ে হচ্ছে তার নামও জানেন না। - সত্যি বলতে কি আমি বিয়েটা করব না বলে ভাবছি। তাই কারও কাছে নাম জানতে চাইনি। - কেন? আপনি বিয়েটা করতে চাচ্ছেন না কেন? - ভাল লাগে না বিয়ে করতে - কিইই। ভাল লাগে না তারমানে আপনি এর আগেও বিয়ে করেছেন? - আরে তা না..আমার বিয়ে করার কোন ইচ্ছাই নাই। - ও। তারমানে আপনি বিয়ে করবেন না। - ইচ্ছে তো সেরকমই আছে। বাই দা ওয়ে আপনার কথা বলুন। আপনি কি ছেলে দেখেছেন? - সরাসরি দেখিনি। ছবি দেখেছি। - ছেলে পছন্দ হয়েছে? - মোটামোটি। এভাবে মেয়েটার সাথে অনেক কথা হল। মেয়েটাকে পুরো অন্য রকম মনে হল। এখনকার মেয়েরা অপরিচিত ছেলেদের সাথে কথাই বলতে চায় না। আর এই মেয়ে আমার সাথে অনারগল অনেক কথা বলেই চলছে। তার ফেবু আইডিও দিল। মেয়েটাকে অনেক ভাল লাগল আমার। দেখতেও খুব সুন্দর। বলা যায় বলা যায় পছন্দও হল। ধুর কি সব আজে বাজে বলছি। একটা মেয়েকে দেখতে যাচ্ছি আর বাসে একটা মেয়েকে পছন্দ করলাম। তাও আবার তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। . রংপুর মেডিকেল মোড়ে বাস স্ট্যান্ডে নেমে একটা অটোরিক্সা নিয়ে চাচার বাসায় চলে এলাম। বাসায় এসে দেখলাম এখানে বিয়ে বাড়ির মতো হৈ চৈ শুরু হয়েছে। আমি যাওয়া মাত্র সবাই আমাকে যেভাবে ঘিরে ধরল মনে হচ্ছে আমি আজকেই বিয়ে করছি। সন্ধ্যার সময় ঘরে বসে আছি। একটা আননোন নম্বর থেকে কল আসল। - হ্যালো…………আল আমিন বলছেন? - জি বলছি। - আমি মনি। - কোন মনি?....এ নামে তো আমি কাউকে চিনি না। - আপনার সাথে যে মেয়েটার বিয়ে ঠিক হয়েছে আমি সেই। - ও। জি বলুন.....…কি বলবেন - (একটু চুপ থেকে) আপনার কি আমাকে পছন্দ হয়েছে? - এখনো তো আমি আপনাকে দেখিনি কি করে বলব। চুপচাপ। কোন কথা নেই। একটুপর ফোনটা কেটে গেল। . সন্ধ্যার সময় কেমন যেন খারাপ খারাপ লাগল। কাকে যেন মিস করছি। বাসে আসা মেয়েটার কথা মনে পরছে। নাহ এসময় বিয়ে করলে জিবনটাই মাটি হয়ে যাবে। যে করেই হোক বিয়েটা আটকাতে হবে। আম্মুর সাথে কথা বলতে হবে। আম্মু খুব ব্যস্ত। কথা বলার সময় নেই। কিন্তু আমাকে যে কথা বলতেই হবে। তাই সুযোগের অপেক্ষায় থাকলাম। . - আম্মু তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। - কি বলবি তাড়াতাড়ি বল। - আমি কালকে মেয়ে দেখতে যেত পারব না। - কেন? - আমি এই মেয়েকে বিয়ে করব না। - কেন? কালকে তো ফোনে বললি তোর মেয়ে পছন্দ হয়েছে!! - আমি এখনো মেয়েটাকে দেখি নি। - তো কালকে দেখবি। - না। আমি বিয়ে করব না। - কিন্তু কেন? তোর বিয়ে করতে এতো অসুবিধা কেন? - আমি একটা মেয়েকে পছন্দ করি। - সেটা আগে বলিস নি কেন? - আরে বাবা আমি তো কালকেই মেয়েটাকে পছন্দ করলাম। - ঠিক আছে আপাতত কালকে মেয়েটাকে দেখতে যা। এসব পরে দেখা যাবে। . মেয়ের বাসায় বসে আছি। মেয়েটা আমার সামনেই বসে আছে। কিন্তু একবারও আমি মেয়েটার দিকে তাকাই নি। মাথা নিচু করে আছি। আম্মু বলল - এই একবার মেয়েটা দেখ না। একেবারে পরির মতো দেখতে। - আমার পছন্দ হয় নি (না তাকিয়ে বললাম। এমনভাবে বললাম যাতে আম্মু ছাড়া আর কেউ শুনতে না পারে) - আরে আগে মেয়েটাকে দেখ তো। - বললাম তো আমার পছন্দ হয়নি। এমন সময় মেয়েটি দুলাভাই বলল - ওদেরকে একটু একা কথা বলতে দেওয়া দরকার। সবাই তার সাথে একমত হল। মেয়েটি উঠে চলে গেল। বাধ্য হয়ে আমাকেও যেতে হল। একটা ঘরে ঢুকে প্রথম মেয়েটাকে দেখলাম। আর দেখে আমি আমার চোখকে বিশ্বাস করাতে পারলাম না। এ তো সেই বাসের মেয়েটা। তাহলে কি এর সাথেই আমার বিয়ে হতে চলছে? - তুমি……মানে আপনি - হ্যাঁ আমি। - কিন্তু কি করে সম্ভব? - আসলে বাসে আমি আপনাকে পরিচয় দেই নি। - কেন? (রেগে গিয়ে) - লজ্জা লাগছিল তাই - হুম!! অচেনা একটা মানুষের সাথে কথা বলতে লজ্জা লাগে না। আর নিজের পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে? - ওমা অচেনা হবে কেন আমি তো আপনার ছবি দেখেছি তাই আপনার সাথে কথা বলেছি। অন্য কেউ থাকলে কথা বলতাম না। - কিন্তু বাসে আপনি বলেছিলেন আপনার নাম মিরা। আবার ফোনে বলেছিলেন মনি,,কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা? - বলব না। যে নিজের হবু ইয়ের নাম জানে না তাকে আমি বলতে যাব কেন - ও। তারমানে আপনি ইচ্ছে করে আমাকে দুইটা নাম বলেছেন? - হু। - ইসস কেন যে তোমার……মানে আপনার ছবি দেখলাম না। এখন কি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন